ইকবাল কাদিরকে বাংলাদেশে এমএফএস ইন্ডাস্ট্রির স্বপ্নদ্রষ্টা বলা যায়।
বাংলাদেশে মোবাইলে টাকাপয়সা লেনদেনের সিস্টেমটা কীভাবে কাজ করবে, এর গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড কী হবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কীভাবে এখানে যুক্ত করা যাবে—সেই ব্লুপ্রিন্ট ইকবাল কাদিরের তৈরি!
ইকবাল কাদিরের জন্ম বাংলাদেশে, ১৯৫৮ সালে।
ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তিনি সোয়ার্থমোর কলেজ থেকে স্নাতক এবং পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্টন স্কুল থেকে এমবিএ করেন।
এরপরে তিনি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার হিসেবে কাজ শুরু করেন নিউইয়র্কে।
১৯৯৩ সালে নিউ ইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে একদিন কাজ করার সময় হুট করে কারেন্ট চলে গেলো। ইকবাল কাদির দেখলেন, কানেক্টিভিটি নেই তো কাজও নেই।
তার মাথায় এক অদ্ভুত চিন্তা খেলে গেল: "কানেক্টিভিটি ইজ প্রোডাক্টিভিটি"।
তিনি ভাবলেন, বাংলাদেশের গ্রামের মানুষের যদি কানেক্টিভিটি থাকতো, তবে তাদের জীবন বদলে যেত।
তিনি আমেরিকান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে চলে এলেন 'গ্রামীণফোন' প্রতিষ্ঠার আইডিয়া নিয়ে।
তিনি ভাবলেন, বাংলাদেশের গ্রামের মানুষ যদি মোবাইলের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হতে পারে, তবে তাদের আয় বাড়বে।
ইকবাল কাদির তার এই আইডিয়া নিয়ে অনেক বড় বড় কোম্পানির দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু তখন বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের চিন্তাটাই ছিলো আকাশকুসুম!
কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে গ্রামের দরিদ্র মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে।
তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে যোগাযোগ করেন।
এরপরে তিনি নরওয়ের টেলিকম জায়ান্ট টেলিনর কে রাজি করান বিনিয়োগের জন্য।
১৯৯৭ সালে গ্রামীণফোন যাত্রা শুরু করে।
গ্রামীণফোন যখন সফল হলো, তখন ইকবাল কাদির বিশ্বজুড়ে এক পরিচিত নাম হয়ে উঠলেন। তিনি স্রেফ একজন ব্যবসায়ী নন, একজন 'থিঙ্ক-ট্যাংক' হিসেবে পরিচিতি পেলেন।
২০০৫ সালের দিকে আমেরিকার বিখ্যাত MIT (Massachusetts Institute of Technology) তাকে আমন্ত্রণ জানায় তাদের প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য।
সেখানে তিনি Legatum Center for Development and Entrepreneurship প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর ডিরেক্টর হন।
তার কাজ ছিলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর (যেমন বাংলাদেশ, আফ্রিকা) তরুণদের শেখানো যে কীভাবে বড় বড় টেকনোলজি ব্যবহার করে ব্যবসা করা যায় এবং দারিদ্র্য দূর করা যায়।
এমআইটিতে পড়ানোর সময় তিনি বলতেন- "সরকার নয়, বরং উদ্যোক্তারাই দেশ বদলাবে।"
এমআইটিতে থাকাকালীন তিনি লক্ষ্য করেন যে, কেনিয়ার মোবাইল কোম্পানি সাফারিকম 'এম-পেসা' নামের এক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস দিয়ে সেই দেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে দিচ্ছে।
তখন তিনি তার ভাই কামাল কাদিরকে সাথে নিয়ে ভাবলেন- বাংলাদেশে তো গ্রামীণফোনের মাধ্যমে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল পৌঁছে গেছে, এখন এই মোবাইলকে 'ব্যাংকের শাখা' হিসেবে ব্যবহার করা যায়!
ইকবাল কাদিরের আসল ব্রিলিয়ান্স ছিল 'কানেক্টিভিটি' এবং 'স্কেল' বোঝা।
তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ব্যাংক দিয়ে সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়, কিন্তু মোবাইল নেটওয়ার্ক দিয়ে সবার পকেটে ঢোকা সম্ভব।
গ্রামীণফোন দিয়ে কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করার পর ইকবাল কাদিরের পরবর্তী বড় লক্ষ্য ছিল 'ব্যাংকিং ইন এভরি পকেট'।
কাজটা মোটেও সহজ ছিল না।
বাংলাদেশ ব্যাংকে এই আইডিয়া 'সেল' করা এবং পলিসি ড্রাফট করার পেছনে ইকবাল কাদির ও তার ভাই কামাল কাদিরের ভূমিকা ছিল মুখ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে যোগ দেন ড. আতিউর রহমান। তিনি ছিলেন 'গরিবের অর্থনীতিবিদ' হিসেবে পরিচিত। তার অন্যতম ভিশন ছিলো 'ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন'।
ইকবাল কাদির ও কামাল কাদির গভর্নরকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, বাংলাদেশের কোটি কোটি আন-ব্যাংকড মানুষকে প্রথাগত ব্যাংকিংয়ে আনা অসম্ভব।
তারা যুক্তি দেন যে, মোবাইল ফোনই হতে পারে সবথেকে শক্তিশালী ব্যাংকিং টুল। গভর্নর আতিউর রহমান রাজি হয়ে যান। তার আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এজেন্ডার সাথে এই মডেল মিলে গিয়েছিল।
তখন বাংলাদেশের টেলিকম অপারেটররা (জিপি, রবি) চাচ্ছিলো, এমএফএস লাইসেন্স যাতে তাদেরকে দেওয়া হয় (এম-পেসার মতো)।
কিন্তু, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক টেলকোদের হাতে টাকার নিয়ন্ত্রণ দিতে রাজি ছিলো না।
তখন ইকবাল কাদির 'ব্যাংক-লেড মডেল' এর প্রস্তাব দেন। এই মডেলে লাইসেন্স থাকবে ব্যাংকের কাছে, কিন্তু টেকনোলজি এবং ডিস্ট্রিবিউশন সামলাবে বিকাশের মতো একটি স্পেশালাইজড কোম্পানি। এই ফর্মুলাতে বাংলাদেশ ব্যাংক রাজি হয়।
ইকবাল কাদির জানতেন এই বিশাল প্রজেক্টের জন্য এমন একটি ব্যাংক দরকার যাদের ভিশন বড় এবং যারা রিস্ক নিতে জানে।
তিনি বসলেন তৎকালীন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ এর সাথে। ভিশনারী স্যার আবেদ বুঝতে পেরেছিলেন এর সম্ভাবনা। তিনি সানন্দে রাজি হন।
২০১০ সালের যে এমএফএস গাইডলাইন তৈরি হয়, সেখানে ইকবাল কাদির এবং কামাল কাদির এর টেকনিক্যাল ইনপুট ছিল ব্যাপক। তারা তত্ত্ব দেন যে,
-এজেন্টদের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন/আউট করতে হবে।
-কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।
-একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানিকে (বিকাশ) ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
ইকবাল কাদির যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের লোকজনকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এর মডেল সম্পর্কে বলছিলেন, তখন অনেকে সন্দিহান ছিলেন যে, :মানুষ মোবাইল দিয়ে টাকা পাঠাবে কেনো?'
তিনি বলেছিলেন, 'মানুষ তার আপনজনকে টাকা পাঠানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে চড়ে গ্রামে যায়, মোবাইল সেই কষ্ট কয়েক সেকেন্ডে নামিয়ে আনবে।'
ইকবাল কাদিরের কাজকর্ম ভীষণ গোছালো। বাংলাদেশ ব্যাংকে এমএফএস প্রতিষ্ঠার কথাবার্তা বলার আগেই তিনি ২০০৯ সালে আমেরিকার ডেলাওয়্যারে (Delaware) Money in Motion LLC নামে একটা কোম্পানি নিবন্ধন করে ফেলেন।
তার ভিশন ছিলো, বাংলাদেশের এমএফএস এ বিনিয়োগ করবে দুনিয়ার সেরা বিনিয়োগকারীরা। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে। বিকাশ এর মালিকানায় এখন আছে চার চারটি বৈশ্বিক জায়ান্ট!
২০১২-১৩ সালে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান IFC (International Finance Corporation) যুক্ত হয়।
২০১৪ সালে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বিনিয়োগ করে।
২০১৮ সালে চীনের জায়ান্ট আলিবাবা (Ant Financial) প্রায় ২০% শেয়ার কিনে নেয়। সাথে করে টেকনিক্যাল কোলাবোরেশান।
২০২১ সালে জাপানের সফটব্যাংক (SoftBank) গ্রুপের বিশাল অংকের বিনিয়োগ নিয়ে আসে।
ইকবাল কাদির যদি এমএফএস এর স্বপ্নদ্রষ্টা হন, তার ভাই কামাল কাদির হচ্ছেন এই সেক্টরের পাইওনিয়ার 'বিকাশ' এর ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বাংলাদেশে বিকাশ এর প্রতিষ্ঠাতা, এর গড়ে ওঠার মেন্টর। ২০১১ সালে 'বিকাশ' এর কার্যক্রম শুরুর পর থেকে তিনি সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ইকবাল কাদিরকে বাংলাদেশে এমএফএস ইন্ডাস্ট্রির স্বপ্নদ্রষ্টা বলা যায়।
বাংলাদেশে মোবাইলে টাকাপয়সা লেনদেনের সিস্টেমটা কীভাবে কাজ করবে, এর গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড কী হবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কীভাবে এখানে যুক্ত করা যাবে—সেই ব্লুপ্রিন্ট ইকবাল কাদিরের তৈরি!
ইকবাল কাদিরের জন্ম বাংলাদেশে, ১৯৫৮ সালে।
ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তিনি সোয়ার্থমোর কলেজ থেকে স্নাতক এবং পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্টন স্কুল থেকে এমবিএ করেন।
এরপরে তিনি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার হিসেবে কাজ শুরু করেন নিউইয়র্কে।
১৯৯৩ সালে নিউ ইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে একদিন কাজ করার সময় হুট করে কারেন্ট চলে গেলো। ইকবাল কাদির দেখলেন, কানেক্টিভিটি নেই তো কাজও নেই।
তার মাথায় এক অদ্ভুত চিন্তা খেলে গেল: "কানেক্টিভিটি ইজ প্রোডাক্টিভিটি"।
তিনি ভাবলেন, বাংলাদেশের গ্রামের মানুষের যদি কানেক্টিভিটি থাকতো, তবে তাদের জীবন বদলে যেত।
তিনি আমেরিকান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে চলে এলেন 'গ্রামীণফোন' প্রতিষ্ঠার আইডিয়া নিয়ে।
তিনি ভাবলেন, বাংলাদেশের গ্রামের মানুষ যদি মোবাইলের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হতে পারে, তবে তাদের আয় বাড়বে।
ইকবাল কাদির তার এই আইডিয়া নিয়ে অনেক বড় বড় কোম্পানির দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু তখন বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের চিন্তাটাই ছিলো আকাশকুসুম!
কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে গ্রামের দরিদ্র মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে।
তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে যোগাযোগ করেন।
এরপরে তিনি নরওয়ের টেলিকম জায়ান্ট টেলিনর কে রাজি করান বিনিয়োগের জন্য।
১৯৯৭ সালে গ্রামীণফোন যাত্রা শুরু করে।
গ্রামীণফোন যখন সফল হলো, তখন ইকবাল কাদির বিশ্বজুড়ে এক পরিচিত নাম হয়ে উঠলেন। তিনি স্রেফ একজন ব্যবসায়ী নন, একজন 'থিঙ্ক-ট্যাংক' হিসেবে পরিচিতি পেলেন।
২০০৫ সালের দিকে আমেরিকার বিখ্যাত MIT (Massachusetts Institute of Technology) তাকে আমন্ত্রণ জানায় তাদের প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য।
সেখানে তিনি Legatum Center for Development and Entrepreneurship প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর ডিরেক্টর হন।
তার কাজ ছিলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর (যেমন বাংলাদেশ, আফ্রিকা) তরুণদের শেখানো যে কীভাবে বড় বড় টেকনোলজি ব্যবহার করে ব্যবসা করা যায় এবং দারিদ্র্য দূর করা যায়।
এমআইটিতে পড়ানোর সময় তিনি বলতেন- "সরকার নয়, বরং উদ্যোক্তারাই দেশ বদলাবে।"
এমআইটিতে থাকাকালীন তিনি লক্ষ্য করেন যে, কেনিয়ার মোবাইল কোম্পানি সাফারিকম 'এম-পেসা' নামের এক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস দিয়ে সেই দেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে দিচ্ছে।
তখন তিনি তার ভাই কামাল কাদিরকে সাথে নিয়ে ভাবলেন- বাংলাদেশে তো গ্রামীণফোনের মাধ্যমে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল পৌঁছে গেছে, এখন এই মোবাইলকে 'ব্যাংকের শাখা' হিসেবে ব্যবহার করা যায়!
ইকবাল কাদিরের আসল ব্রিলিয়ান্স ছিল 'কানেক্টিভিটি' এবং 'স্কেল' বোঝা।
তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ব্যাংক দিয়ে সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়, কিন্তু মোবাইল নেটওয়ার্ক দিয়ে সবার পকেটে ঢোকা সম্ভব।
গ্রামীণফোন দিয়ে কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করার পর ইকবাল কাদিরের পরবর্তী বড় লক্ষ্য ছিল 'ব্যাংকিং ইন এভরি পকেট'।
কাজটা মোটেও সহজ ছিল না।
বাংলাদেশ ব্যাংকে এই আইডিয়া 'সেল' করা এবং পলিসি ড্রাফট করার পেছনে ইকবাল কাদির ও তার ভাই কামাল কাদিরের ভূমিকা ছিল মুখ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে যোগ দেন ড. আতিউর রহমান। তিনি ছিলেন 'গরিবের অর্থনীতিবিদ' হিসেবে পরিচিত। তার অন্যতম ভিশন ছিলো 'ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন'।
ইকবাল কাদির ও কামাল কাদির গভর্নরকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, বাংলাদেশের কোটি কোটি আন-ব্যাংকড মানুষকে প্রথাগত ব্যাংকিংয়ে আনা অসম্ভব।
তারা যুক্তি দেন যে, মোবাইল ফোনই হতে পারে সবথেকে শক্তিশালী ব্যাংকিং টুল। গভর্নর আতিউর রহমান রাজি হয়ে যান। তার আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এজেন্ডার সাথে এই মডেল মিলে গিয়েছিল।
তখন বাংলাদেশের টেলিকম অপারেটররা (জিপি, রবি) চাচ্ছিলো, এমএফএস লাইসেন্স যাতে তাদেরকে দেওয়া হয় (এম-পেসার মতো)।
কিন্তু, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক টেলকোদের হাতে টাকার নিয়ন্ত্রণ দিতে রাজি ছিলো না।
তখন ইকবাল কাদির 'ব্যাংক-লেড মডেল' এর প্রস্তাব দেন। এই মডেলে লাইসেন্স থাকবে ব্যাংকের কাছে, কিন্তু টেকনোলজি এবং ডিস্ট্রিবিউশন সামলাবে বিকাশের মতো একটি স্পেশালাইজড কোম্পানি। এই ফর্মুলাতে বাংলাদেশ ব্যাংক রাজি হয়।
ইকবাল কাদির জানতেন এই বিশাল প্রজেক্টের জন্য এমন একটি ব্যাংক দরকার যাদের ভিশন বড় এবং যারা রিস্ক নিতে জানে।
তিনি বসলেন তৎকালীন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ এর সাথে। ভিশনারী স্যার আবেদ বুঝতে পেরেছিলেন এর সম্ভাবনা। তিনি সানন্দে রাজি হন।
২০১০ সালের যে এমএফএস গাইডলাইন তৈরি হয়, সেখানে ইকবাল কাদির এবং কামাল কাদির এর টেকনিক্যাল ইনপুট ছিল ব্যাপক। তারা তত্ত্ব দেন যে,
-এজেন্টদের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন/আউট করতে হবে।
-কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।
-একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানিকে (বিকাশ) ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
ইকবাল কাদির যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের লোকজনকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এর মডেল সম্পর্কে বলছিলেন, তখন অনেকে সন্দিহান ছিলেন যে, :মানুষ মোবাইল দিয়ে টাকা পাঠাবে কেনো?'
তিনি বলেছিলেন, 'মানুষ তার আপনজনকে টাকা পাঠানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে চড়ে গ্রামে যায়, মোবাইল সেই কষ্ট কয়েক সেকেন্ডে নামিয়ে আনবে।'
ইকবাল কাদিরের কাজকর্ম ভীষণ গোছালো। বাংলাদেশ ব্যাংকে এমএফএস প্রতিষ্ঠার কথাবার্তা বলার আগেই তিনি ২০০৯ সালে আমেরিকার ডেলাওয়্যারে (Delaware) Money in Motion LLC নামে একটা কোম্পানি নিবন্ধন করে ফেলেন।
তার ভিশন ছিলো, বাংলাদেশের এমএফএস এ বিনিয়োগ করবে দুনিয়ার সেরা বিনিয়োগকারীরা। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে। বিকাশ এর মালিকানায় এখন আছে চার চারটি বৈশ্বিক জায়ান্ট!
২০১২-১৩ সালে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান IFC (International Finance Corporation) যুক্ত হয়।
২০১৪ সালে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বিনিয়োগ করে।
২০১৮ সালে চীনের জায়ান্ট আলিবাবা (Ant Financial) প্রায় ২০% শেয়ার কিনে নেয়। সাথে করে টেকনিক্যাল কোলাবোরেশান।
২০২১ সালে জাপানের সফটব্যাংক (SoftBank) গ্রুপের বিশাল অংকের বিনিয়োগ নিয়ে আসে।
ইকবাল কাদির যদি এমএফএস এর স্বপ্নদ্রষ্টা হন, তার ভাই কামাল কাদির হচ্ছেন এই সেক্টরের পাইওনিয়ার 'বিকাশ' এর ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বাংলাদেশে বিকাশ এর প্রতিষ্ঠাতা, এর গড়ে ওঠার মেন্টর। ২০১১ সালে 'বিকাশ' এর কার্যক্রম শুরুর পর থেকে তিনি সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আপনার মতামত লিখুন